1. chitrabani24@gmail.com : admin :
  2. qwsd@postcards-hawaii.com : leannetolmer375 :
  3. herokkazi6@gmail.com : mohidul :
  4. saddamuddinraj@gmail.com : Saddam Uddin Raj : Saddam Uddin Raj
  5. yusuf@ataberkestate.com : TimothyGuete :
শোয়েব আহমদ চৌধুরীর জীবনী, এক সততার গল্প : প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী » Chitrabani 24 | online news paper
মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ পূর্বাহ্ন

শোয়েব আহমদ চৌধুরীর জীবনী, এক সততার গল্প : প্রতিমন্ত্রী শফিক চৌধুরী

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জুন, ২০২৪
  • ৪৬ জন পাঠক দেখেছে

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিলেট-০২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা জনাব আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি বলেছেন, “প্রয়াত ত্যাগী ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা জননেতা মরহুম শোয়েব আহমদ চৌধুরীর সংগ্রামী ও বর্ণাঢ্য জীবনী এক সততার গল্প। তিনি ছিলেন সত্য-সুন্দর ও নিষ্ঠার পথচলার অভিযাত্রায় এক সেরা অদম্য চরিত্র ও মহৎ সকল গুনের অধীকারী মহান ব্যক্তিত্ব। ছাত্রনেতা থেকে জননেতা, সততার মূর্ত প্রতিক। এমন সত্যের পথের পথিক ও ন্যায়পরায়ণ রাজনৈতিক নেতা কিংবা মহৎ হৃদয়ের অধীকারী ভালো মনের মানুষ বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া আসলেই বড্ড দায়।

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাণপুরুষ ও দুঃসময়ের কান্ডারী, ৮০দশকের তুখোড় বিপ্লবী ছাত্রনেতা ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের  নেতৃত্বদানকারী ছাত্রলীগ নেতা মরহুম জননেতা জনাব শোয়েব আহমদ চৌধুরী’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলার সাহসী বীর কিংবদন্তী শোয়েব আহমদ চৌধুরী’র গল্প’ শীর্ষক স্মরণ সভা এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, একজন সত্যিকারের খাঁটি দেশপ্রেমিক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রকৃত সৈনিক ছিলেন জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী।

তিনি ছিলেন সত্যিকারের জনদরদি নেতা। দেশ, দল ও জনমানুষের উন্নয়নে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। দেশ ও সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের লক্ষে নিঃস্বার্থে নির্বিঘ্নে তিনি তাঁর সারাটি জীবন সংগ্রাম করেগেছেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুল তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেগেছেন। তিনি ছিলেন বাংলা মায়ের ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক ক্লান্তিহীন বীর যোদ্ধা।

তিনি বলেন, মরহুম জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী ১৯৮৬সালে ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের জেনারেল সেক্রেটারি এবং পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেই সময় স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ স্লোগানে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে নেত্রীর বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হিসেবে রাজপথে লাখো কোটি ছাত্রজনতার নেতৃত্ব দিয়েছেন। আশির দশকের এই ছাত্রনেতা স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকাকালীন ও নেতৃত্বদানকালীনসময়ে রাজপথে অজস্র রক্ত জড়িয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এরশাদ সাহেবের পুলিশের লাটিচার্জ, টিআর গ্যাস এবং মারধর নির্যাতন অত্যাচার সহ্য করেছেন। সেসময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি থাকাকালীন সময়েও তাঁকে রাজপথ থেকে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার করা হতো।

এরকম অসংখ্যবার তিনি গ্রেপ্তার হন এবং বারবার কারাবরণ করেন। মন্ত্রী বলেন, এনপি-জামায়াতের চারদলীয়জোট সরকারের আমলে অসংখ্য অগণিত মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় শোয়েব আহমদ চৌধুরীর নামে। মিথ্যা অপবাদ তোলা হয়, এবং তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক চরম ঘৃণিত ষড়যন্ত্র করে অপশক্তিরা। শতশত মিথ্যা মামলার আসামী করা হয় তাঁকে। কিন্তু সত্য কখনও ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না, মিথ্যে দিয়া সত্যকে চিরকাল ঢেকে রাখা অসম্ভব। জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ঘটেগেছে অনেক বিপর্যয়, হাজারো প্রতিকূলতা ও ঝড় এসেছে তাঁর জীবনের উপর। কিন্তু কিছুতেই তিনি তাঁর নীতি ও আদর্শ থেকে একবিন্দুও বিচ্যুত হননি। মরহুম জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী সত্যের পক্ষে আপোষহীন ছিলেন, আর তাই তাঁকে সকল আপদ-বিপদ ও জালিমদের নিকৃষ্ট গভীর ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করেছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন।

পরিশেষে বিজয় হয়েছে সত্যের। শফিক চৌধুরী বলেন, লোভলালসা কখনও যাকে টানেনি, স্বার্থের মায়া যাকে জীবনে কোনোদিনও স্পর্শ করতে পারে নাই তিনিই হলেন আমাদের জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী। তিনি দুনিয়াবি পার্থিব জীবনের সুখ-আরাম-আয়েশ, টাকাপয়সা সবকিছুকেই বিসর্জন দিয়েছিলেন, একমাত্র মহান আল্লাহর উপর ভরসাবান ছিলেন। তিনি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের একজন কামিয়াবি বান্দা ছিলেন এবং মস্ত বড় আশেকে রাসূল ছিলেন, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। শোয়েব আহমদ চৌধুরী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এদেশের মানুষের জন্য সর্বকিছু উজাড় করে দিয়েছেন।

নিজের স্বার্থর কথা কখনও কোনোদিন চিন্তাও করেন নাই তিনি। আমৃত্যু শুধু মানুষকে দিয়েই গেছেন, নেননি কোনোকিছুই। যেকোনো মানুষের দুঃখের দিনে, আপদেবিপদে, মানুষের যেকোনো সমস্যায় তিনি দৌড়ে গিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সর্বোচ্চ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিপদগ্রস্ত মানুষে দুঃখের সাথী ছিলেন তিনি। রাজনীতিতে যেমন তাঁর মতো এমন ধর্মভীরু, আল্লাহওয়ালা, দেশপ্রেমিক, সৎ, আদর্শবান, নির্লোভ, নিরহংকার, সাদামাটা, সাধারণে অসাধারণ বিনয়ী নেতা ও অপার সুন্দরময় মনের মানুষ বিরল তেমনই শুধুমাত্র বাংলাদেশই নয় বহির্বিশ্বে তার মতো সর্বগুণেগুণান্বিত কিংবদন্তী মহান ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন।

প্রতিমন্ত্রী এসময় শফিক চৌধুরী আরও বলেন, জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ও খুবই কাছের লোক ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্নেহের ও বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড ছিলেন। তাঁকে নেত্রী বহুবার জাতীয় নির্বাচনে পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বলেছেন কিন্তু তিনি কখনও ক্ষমতা বা পদপদবির আশা করেননাই। কোনো নির্বাচন করা বা পদ-ক্ষমতার আশা-আকাঙ্ক্ষা তাঁর বিন্দুমাত্র ছিলো নাহ। তিনি আমৃত্যু দেশকে ভালোবেসে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয় ধারণ করে একজন নিবেদিতপ্রাণ অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে দেশমাতৃকার সেবা করেগেছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন কিন্তু কোনো আলাদা স্পেশালি সুযোগসুবিধা কোনোদিনই নেননি তিনি্। সাধারণ একজন মানুষ হয়ে থেকে চিরকাল, অতিসাধারণ জীবনযাপন করেগেছেন। আমাদের সিলেটের মাটিতে আমাদের আরেক প্রয়াত নেতা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সংগ্রামী সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান ভাই জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী ভাইয়ের সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্ট্রেজে রেখে নেত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী আমাদের দেশের কৃতিসন্তান, আর আমাদের এই সিলেট বিভাগের মহামূল্যবান রত্ন (সিলেটরত্ন)। সত্যিই তাই! শোয়েব আহমদ চৌধুরী হযরত শাহজালাল, শাহপরান ও ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি বৃহত্তর সিলেট বিভাগের অহংকার, গর্ব এবং একজন সূর্যসন্তান। তিনি শুধু তাঁর নিজ এলাকা হবিগঞ্জ জেলা, আমাদের বৃহত্তর সিলেট বিভাগ কিংবা বাংলাদেশেই নয় প্রবাসে থাকাঅবস্থায়ও সমাজ, সংস্কৃতি ও অসহায় মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করেছেন। প্রবাসের মাটিতে ভুক্তভোগী বা বিপদে পড়েযাওয়া অসংখ্য বাংলাদেশীদের তিনি নিজ বুকে টেনে নিয়ে ভালোবাসায় জড়িয়ে রেখেছেন দিয়েছেন সর্বোচ্চ সহযোগিতা।

তাঁর মতো এমন উদার মনের, পরোপকারী মানুষকে হারিয়ে আজ গরীব-দুঃখী মানুষ এবং আপামর জনতা চোখের পানি ছেড়ে এখনও কাঁদে। এমন একজন মহান নেতাকে এদেশের কৃষক-শ্রমিক,দিনমজুর,কেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে কেউই কোনোদিন ভূলতে পারবে না। তিনি বেঁচে থাকবেন জনমানুষের হৃদয় অনন্তকাল। অমর হয়ে থাকবে আমাদের সবার আদর্শ হয়ে এবং পথচলার সাহস অনুপ্রেরণা হয়ে। আমি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, ঘনিষ্ঠ আপনজন আমার ভাই প্রিয় মরহুম জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী’র জন্য আপনাদের সবার নিকট দোয়া চাই। আপনারা সবাই তাঁরজন্য দোয়া করবেন।

এবং তিনি যেই নেকসন্তান রেখেগেছেন তাঁর সুযোগ্য পুত্র আমার ভাতিজা জুবরান চৌধুরী সে নিজ পিতার মতোই অসম্ভব সৎ সাহসী, বুদ্ধিমান, মেধাবী,মননশীল। আমার এত্তোএত্তো আদরের ও ভালোবাসার স্নেহের বাবাজি জুবরান চৌধুরী এখনই যেভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে যেন সদাসর্বদাই অটুট থাকে এবং তাঁর বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, বাবার মতো একজন মহাম ভালো মানুষ ও সত্যিকারের জনমানুষের প্রাণের প্রিয় নেতা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেই দোয়া করবেন। আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করছি মরহুম জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি।

মহান আল্লাহ তাআ’লা তাঁর এই প্রিয় বান্দাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমিন।” এসময় উক্ত স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য প্রদান করেন, প্রয়াত জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি লেকচারার মোঃ মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম (বাদশাহ), মরহুম জননেতা শোয়েব আহমদ চৌধুরী’র একমাত্র পুত্র বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি এ.জি জুবরান চৌধুরী সহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী, এবং সাংবাদিক বৃন্দ সহ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর

© All rights reserved © 2022 | Chitrabani 24
Theme Customized By BreakingNews